৭২–এর চার মূলনীতি বাতিলের দাবি এনসিপির, সংবিধান সংস্কার আলোচনায় মতানৈক্য
ভূমিকা
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও আলোচনায় এসেছে ৭২–এর চার মূলনীতি বাতিল প্রসঙ্গ। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা ১৯৭২ সালের সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত চার মূলনীতি বাতিলের দাবিতে অনড় রয়েছে। সংবিধান সংস্কারকে কেন্দ্র করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর চলমান আলোচনায় এ বিষয়টি সবচেয়ে বিতর্কিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
৭২–এর চার মূলনীতি বাতিলের দাবি কেন তুলেছে এনসিপি
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন বলেছেন,
“আমরা বাহাত্তরের মুজিববাদী মূলনীতি রাখার পক্ষে নই। এগুলো বাদ দিতে হবে।”
রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন। এনসিপির মতে, ৭২–এর চার মূলনীতি বাতিল না করলে সংবিধান একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দর্শনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
৭২–এর চার মূলনীতি কী কী
১৯৭২ সালের সংবিধানে চারটি মূলনীতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়—
জাতীয়তাবাদ
সমাজতন্ত্র
গণতন্ত্র
ধর্মনিরপেক্ষতা
এনসিপির দাবি, এই মূলনীতিগুলো একটি নির্দিষ্ট সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতা থেকে তৈরি হয়েছে। তাই বর্তমান রাষ্ট্রচিন্তার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে ৭২–এর চার মূলনীতি বাতিল করে নতুন মূলনীতি সংযোজন জরুরি।
সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব বনাম ৭২–এর চার মূলনীতি বাতিল
সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবে—
মানবিক মর্যাদা
সাম্য
সামাজিক সুবিচার
গণতন্ত্র
এই চারটি নতুন মূলনীতি যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
তবে এনসিপি বলছে, পুরোনো ৭২–এর চার মূলনীতি বাতিল না করে নতুন মূলনীতি যুক্ত করলে সাংবিধানিক দ্বন্দ্ব থেকেই যাবে।
প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমা নিয়েও এনসিপির অবস্থান
এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা বলেন,
“একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুইবার প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন—এমন বিধান সংবিধানে থাকতে হবে।”
অন্যদিকে, আলোচনায় অংশ নেওয়া কয়েকটি দল সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের প্রস্তাব দিয়েছে। এই বিষয়েও কোনো ঐকমত্য তৈরি হয়নি।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হলো
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় বিএনপি, জামায়াতসহ মোট ৩০টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।
উপস্থিত ছিলেন—
অধ্যাপক আলী রীয়াজ
বিচারপতি এমদাদুল হক
ড. ইফতেখারুজ্জামান
তবে ৭২–এর চার মূলনীতি বাতিল নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতামত
বিশ্লেষকদের মতে, ৭২–এর চার মূলনীতি বাতিল ইস্যুটি শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি ঐতিহাসিক ও আদর্শিক প্রশ্নের সঙ্গেও জড়িত। একপক্ষ মনে করছে, চার মূলনীতি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তি। অন্যপক্ষের মতে, সময়ের সঙ্গে সংবিধান সংস্কার অপরিহার্য।
উপসংহার
জাতীয় নাগরিক পার্টির ৭২–এর চার মূলনীতি বাতিলের দাবি বাংলাদেশের সংবিধান সংস্কার বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সব দলের মধ্যে ঐকমত্য না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা হবে বলে জানিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। ভবিষ্যতে এই দাবি বাংলাদেশের রাজনৈতিক কাঠামোতে কী প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়
