আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহল ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, বাংলাদেশে একটি শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে—এমন প্রত্যাশাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে মাগুরা শহরের নান্দুয়ালী নিতাই গৌর গোপাল সেবাশ্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি নির্বাচন নিয়ে সরকারের প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, “আমরা চাই বাংলাদেশের সব জনগোষ্ঠী—মুসলমান, হিন্দু, পাহাড়ি ও বাঙালি—সবাই যেন নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।” তিনি আরও বলেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সরকার ও নির্বাচন কমিশন সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। শফিকুল আলম বলেন, মাগুরা জেলার মোট ৩০১টি ভোটকেন্দ্রকে জানুয়ারি মাসের মধ্যেই সরাসরি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ইতোমধ্যে প্রায় ৮০০ পুলিশ সদস্যকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, শুধু মাগুরা নয়, দেশের প্রতিটি জেলায় ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে। অনেক এলাকায় বডি ক্যামেরা ব্যবহার করে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে, যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা সহিংসতার সুযোগ না থাকে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, “আন্তর্জাতিক মহল আশা করছে, বাংলাদেশে একটি ডেমোক্রেটিক ট্রানজিশনের মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।” তিনি জানান, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
এ সময় তিনি অতীতের শাসনামল নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। শফিকুল আলম বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বললেও একসময় দেশে একদলীয় ফ্যাসিবাদ কায়েম করা হয়েছিল। তার দাবি, সে সময় দলীয় পরিচয় ছাড়া চাকরি কিংবা সুযোগ-সুবিধা পাওয়া ছিল অত্যন্ত কঠিন।
প্রেস সচিব আরও বলেন, দেশের বাইরে থেকে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও মিথ্যাচার ছড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে পুলিশ হত্যার সংখ্যা নিয়ে যে দাবি করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “এই ধরনের অপপ্রচার দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা। তবে জনগণ এসব বিভ্রান্তিতে পা দেবে না।”
মন্দির পরিদর্শনকালে শফিকুল আলম বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক ঐক্য বজায় রেখে নির্বাচন পরিচালনা করাই সরকারের লক্ষ্য। এ সময় নিতাই গৌড় গোপাল সেবাশ্রমের অধ্যক্ষ চিন্ময়ানন্দ দাস ব্রহ্মচারী, তরুণ ভৌমিকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সবশেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।
