নির্বাচনে সর্বোচ্চ সংখ্যক পর্যবেক্ষক পাঠাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নজামায়াত আমিরের বসুন্ধরা কার্যালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের দৃশ্য।
WhatsApp
WhatsApp Channel
Join Now
Telegram Telegram Channel Join Now

বুধবার (০৭ জানুয়ারি) সকালে জামায়াত আমিরের বসুন্ধরা কার্যালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে নেতৃত্ব দেন ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক পাওলা পাম্পালোনি। এ সময় ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় নির্বাচন ও পর্যবেক্ষক প্রসঙ্গ

বৈঠক শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জানান, আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল আসন্ন জাতীয় নির্বাচন। এ নির্বাচনে নির্বাচনে সর্বোচ্চ সংখ্যক পর্যবেক্ষক পাঠাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন—এমন আশ্বাস দিয়েছেন ইইউ প্রতিনিধি দল। অতীতের নির্বাচনগুলো অংশগ্রহণমূলক না হওয়ায় এবার তারা বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ

ডা. তাহের বলেন, গত কয়েক দশকে দেশে যে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে, তার বড় কারণ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অভাব। বর্তমান প্রেক্ষাপটে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একটি দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব থাকলে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। অতীতের মতো পাতানো নির্বাচন দেশকে ক্ষতির দিকে ঠেলে দিতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনা

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতে রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় করে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিতে কাজ করা হবে।

রাজনৈতিক সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা

এক প্রশ্নের জবাবে ডা. তাহের বলেন, কেবল সরকার বা নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়; এজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা জরুরি। জামায়াত সব দলের সঙ্গে সংলাপ ও মতবিনিময়ের পক্ষে রয়েছে বলে জানান তিনি।

লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতের দাবি

নির্বাচনী পরিবেশে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, একজন প্রার্থীর জন্য যা প্রযোজ্য, অন্যদের ক্ষেত্রেও তা সমানভাবে কার্যকর হতে হবে। নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সহায়তার ক্ষেত্রে বৈষম্য হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

বৈঠকে জামায়াত আমিরের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বশীলরা এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টারা।

দ্বারা Saimun Sabit