চোরদের মুখে হাত ঢুকিয়ে পেট থেকে সব টাকা বের করে আনব: কুড়িগ্রামে জামায়াত আমির
চোরদের মুখে হাত ঢুকিয়ে পেট থেকে সব টাকা বের করে আনব—ক্ষমতায় এলে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে এমন কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার সকালে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, কুড়িগ্রাম জেলার সবচেয়ে বড় সংকট নদীভাঙন। প্রতি বছর বর্ষা এলেই নদীপাড়ের মানুষের জীবন আতঙ্কে পড়ে যায়। অথচ নদীভাঙন রোধে বরাদ্দ হওয়া বাজেটের সঠিক ব্যবহার হয়নি।
নদীভাঙন রোধের অর্থ দুর্নীতিতে লুট হয়েছে অভিযোগ
ডা. শফিকুর রহমান বলেন,
“এই কুড়িগ্রাম জেলার দুঃখ হলো প্রধান তিনটি নদী। দিনের পর দিন একটি সুবিধাবাদী শ্রেণি এই নদীগুলোকে হত্যা করেছে। নদীগুলোকে কঙ্কাল বানানো হয়েছে। নদীভাঙন রোধে যত বাজেট হয়েছে, সবগুলো তাদের পেটের ভেতরে গেছে।”
তিনি আরও বলেন,
“আমরা ক্ষমতায় গেলে ওই চোরদের মুখে হাত ঢুকিয়ে পেট থেকে সব টাকা বের করে আনব।”
ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে কুড়িগ্রাম পৌঁছান জামায়াত আমির
বুধবার সকালে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে কুড়িগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে পৌঁছান জামায়াতে ইসলামীর আমির। পরে বিশেষ নিরাপত্তায় গাড়িবহর নিয়ে তিনি জনসভাস্থলে উপস্থিত হন।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির মো. আজিজুর রহমান। এতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
“আমরা দলীয় নয়, জনগণের বিজয় চাই”
ডা. শফিকুর রহমান বলেন,
“আমরা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না, আমরা চাই এ দেশের আঠারো কোটি মানুষের বিজয়।”
তিনি বলেন, তিস্তাপার থেকেই চব্বিশের গণমুক্তির আন্দোলন শুরু হয়েছিল। অথচ সেই তিস্তাপারের জেলা কুড়িগ্রাম আজও দেশের সবচেয়ে অবহেলিত ও দারিদ্র্যপীড়িত জেলার তালিকায় রয়েছে।
উত্তরবঙ্গকে কৃষি শিল্পের রাজধানী গড়ার প্রতিশ্রুতি
কর্মসংস্থান হবে অগ্রাধিকার
জামায়াত আমির বলেন,
“এই তিস্তাপারের উত্তরবঙ্গকে কৃষি শিল্পের রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এখানে সবাই কাজ পাবে। কেউ বেকার থাকবে না। প্রকৃত বিজয় তখনই হবে।”
তিনি জানান, কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন করে তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
সীমান্ত হত্যা বন্ধের ঘোষণা
আর কোনো ফেলানী নয়
সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন,
“অতীতে সীমান্তে আমাদের দেশের মানুষকে পাখির মতো গুলি করে মারা হয়েছে। কোনো বিচার পাইনি।”
তিনি বলেন,
“আমি ফেলানীর বাড়িতে গিয়েছিলাম। তার মা–বাবার চোখে পানি নয়, রক্ত দেখে এসেছি।”
ক্ষমতায় গেলে আর কোনো বাংলাদেশিকে সীমান্তে প্রাণ দিতে হবে না বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিতের অঙ্গীকার
নারীদের প্রতি বৈষম্য বন্ধ হবে
নারী শ্রমিকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“কর্মক্ষেত্রে বিশেষ করে মায়েদের প্রতি বৈষম্য ও অসম্মান রয়েছে। সমান কাজ করেও অনেক ক্ষেত্রে নারী শ্রমিকেরা কম মজুরি পান।”
তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কর্মস্থল থেকে আবাসস্থল পর্যন্ত নারীরা শতভাগ নিরাপত্তা ও সম্মান পাবেন।
জনসভায় অন্যান্য নেতাদের বক্তব্য
কুড়িগ্রামে অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের এই জনসভায় আরও বক্তব্য দেন—
রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান
জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্যসচিব আখতার হোসেন
কুড়িগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী আতিকুর রহমান
কুড়িগ্রাম-১ আসনের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম
কুড়িগ্রাম-৩ আসনের প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী
কুড়িগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থী মো. মোস্তাফিজুর রহমান
উপসংহার
চোরদের মুখে হাত ঢুকিয়ে পেট থেকে সব টাকা বের করে আনব—এই বক্তব্যের মাধ্যমে দুর্নীতি, নদীভাঙন, সীমান্ত হত্যা ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। কুড়িগ্রামের জনসভায় তার বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
