কুমিল্লা-১০ আসনে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারেকুমিল্লা-১০ আসনের বিএনপির প্রার্থী মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া
WhatsApp
WhatsApp Channel
Join Now
Telegram Telegram Channel Join Now

কুমিল্লা-১০ আসনে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া: দলীয় মনোনয়ন ছাড়াই বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী

বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে অনেক সময় এমন ঘটনা ঘটে, যা শুধু একটি আসনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না—তা জাতীয় আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। কুমিল্লা-১০ আসনে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রার্থিতা ফিরে পাওয়া ঠিক তেমনই একটি ঘটনা, যেখানে দলীয় সিদ্ধান্ত, নির্বাচন কমিশন এবং আদালতের ভূমিকা একসঙ্গে সামনে এসেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, আইনি লড়াই ও শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টের নির্দেশ—সব মিলিয়ে বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কুমিল্লা-১০ আসনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

কুমিল্লা-১০ আসন, যার মধ্যে নাঙ্গলকোট ও লালমাই উপজেলা অন্তর্ভুক্ত, দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। অতীতের নির্বাচনে এখানে দলটির উল্লেখযোগ্য ভোটব্যাংক ছিল। এই আসন থেকেই ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া

পরবর্তী সময়ে তিনি দলের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থেকেছেন এবং এবারের নির্বাচনেও প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নেন।

দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ার ঘটনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির পক্ষ থেকে কুমিল্লা-১০ আসনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল গফুর ভূঁইয়াকে। এ সিদ্ধান্তে দলীয়ভাবে মনোনয়নপ্রত্যাশী মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হন।

তবুও দল ছাড়ার পথে না গিয়ে তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবেই মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে দলীয় প্রত্যয়নপত্র না থাকায় যাচাই-বাছাইয়ে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।

নির্বাচন কমিশন ও আপিল প্রক্রিয়া

মনোনয়নপত্র বাতিলের পর মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। ফলে প্রাথমিকভাবে তাঁর নির্বাচনে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

এদিকে, একই আসনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া আবদুল গফুর ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য গোপনের অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করে।

হাইকোর্টের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন এবং নির্বাচন কমিশনকে তা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এই আদেশের ফলে কুমিল্লা-১০ আসনে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বৈধতা ফিরে পান এবং ধানের শীষ প্রতীক পাওয়ার পথ সুগম হয়।

ঋণখেলাপি বিতর্ক ও আইনি ব্যাখ্যা

মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ ছিল ঋণখেলাপি হওয়া। তাঁর আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী—

তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এককালীন অর্থ পরিশোধ করেন
ঋণ পুনঃতফসিল সম্পন্ন হয়
সংশ্লিষ্ট ব্যাংকও নিশ্চিত করে যে বর্তমানে তিনি খেলাপি নন
এই যুক্তিগুলো আদালতে উপস্থাপন করা হলে হাইকোর্ট তা বিবেচনায় নেয়।

বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বার্তা

এই ঘটনাটি বিএনপির ভেতরের রাজনীতিতেও একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। দলীয় মনোনয়ন না পেলেও মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া দলের বাইরে না গিয়ে শেষ পর্যন্ত আইনি পথে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন।

তিনি নিজেও বলেছেন, দলের বাইরে যাওয়ার কোনো চিন্তা তাঁর ছিল না এবং শেষ পর্যন্ত দলের প্রতীকেই নির্বাচনে অংশ নেওয়াই তাঁর লক্ষ্য।

নির্বাচনী মাঠে নতুন সমীকরণ

হাইকোর্টের আদেশের পর কুমিল্লা-১০ আসনে নির্বাচনী সমীকরণ বদলে গেছে। এই আসনে ইতোমধ্যে একাধিক দল ও জোটের প্রার্থীরা প্রতীক পেয়েছেন। তবে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার অন্তর্ভুক্তি ভোটের লড়াইকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত কেবল একটি আসনের ফল নয়—বরং জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

উপসংহার

দ্বারা Saimun Sabit

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।