যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ বছর বয়সী শিশুকে আটক: আইসিই অভিযানে আতঙ্ক ও প্রশ্ন
যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ বছর বয়সী শিশুকে আটক করার একটি ঘটনা দেশটির অভিবাসন নীতিকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের কলাম্বিয়া হাইটস শহরে অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিই (ICE) এক অভিযানে অন্তত চারজন শিক্ষার্থীকে আটক করে, যাদের মধ্যে একজনের বয়স মাত্র পাঁচ বছর। স্থানীয় স্কুল কর্তৃপক্ষ, পরিবারের আইনজীবী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় ঘটনাটি মানবিক ও আইনি দিক থেকে গভীর প্রশ্ন তুলেছে।
মিনেসোটায় আইসিই অভিযানের পটভূমি
কলাম্বিয়া হাইটস এলাকায় চলতি সপ্তাহে সশস্ত্র ও মুখোশধারী আইসিই কর্মকর্তাদের উপস্থিতি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করে। স্কুল জেলা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আটক চার শিক্ষার্থীর মধ্যে দুজনের বয়স ১৭ বছর, একজন ১০ বছর এবং একজন মাত্র পাঁচ বছর বয়সী।
এই অভিযানের ফলে স্কুলপড়ুয়া শিশুদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
পাঁচ বছর বয়সী শিশুটির পরিচয় ও পরিবারের দাবি
যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ বছর বয়সী শিশুকে আটক হওয়ার ঘটনায় সবচেয়ে আলোচিত নাম লিয়াম কোনেহো রামোস। তার পরিবারের আইনজীবী জানান, লিয়াম ও তার বাবা দুজনই ইকুয়েডরের নাগরিক এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে বৈধ প্রক্রিয়ায় অবস্থান করছিলেন।
আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, লিয়াম ও তার বাবাকে পরে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডিলিতে অবস্থিত একটি পারিবারিক আটক কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। এ ঘটনায় সরকারের ব্যাখ্যার সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই বলে দাবি করেন তারা।
স্কুল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ
কলাম্বিয়া হাইটস পাবলিক স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট জেনা স্টেনভিক এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আইসিই কর্মকর্তারা শুধু শিশুদের আটকই করেননি, বরং স্কুল চত্বর, স্কুল বাস এবং পার্কিং এলাকাতেও নিয়মিত টহল দিয়েছেন।
তিনি বলেন,
“আমাদের স্কুলের চারপাশে যেভাবে আইসিই এজেন্টদের ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে, তা শিশু ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে।”
স্টেনভিকের মতে, এই পরিস্থিতি শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একদিন প্রি–স্কুল থেকে বাবার সঙ্গে বাড়ি ফেরার সময় লিয়ামকে আটক করা হয়। সে সময় শিশুটির মাথায় নীল রঙের একটি টুপি ছিল এবং কাঁধে একটি ব্যাকপ্যাক ঝুলছিল।
তাদের দাবি, মুখোশধারী কর্মকর্তারা প্রথমে শিশুটির বাবাকে বাড়ির গ্যারেজ থেকে তুলে নিয়ে যান। এরপর লিয়ামকে কার্যত জিম্মি করে তার মাকে ঘর থেকে বের করে আনার চেষ্টা করা হয়।
আইসিই ও সরকারের ব্যাখ্যা
ঘটনার পর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এক সংবাদ সম্মেলনে আইসিইর পক্ষে অবস্থান নেন। তিনি বলেন, শিশুটির বাবা পলাতক ছিলেন এবং অভিবাসন কর্মকর্তারা তাকে খুঁজছিলেন।
ভ্যান্সের বক্তব্য অনুযায়ী, কর্মকর্তারা পাঁচ বছর বয়সী শিশুটিকে একা ফেলে যেতে চাননি বলেই তাকে সঙ্গে নিয়ে যান।
তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন,
“তাঁরা কী করতেন? একটি শিশুকে কি ঠান্ডার মধ্যে একা ফেলে যেতেন?”
স্কুল বোর্ড ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের আপত্তি
কলাম্বিয়া হাইটস স্কুল বোর্ডের চেয়ার মেরি গ্র্যানলুন্ড এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নন। তিনি বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ, পরিবারের এক প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য এবং প্রতিবেশীরা শিশুটিকে নিজেদের জিম্মায় নিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আইসিই কর্মকর্তারা তাতে সম্মতি দেননি।
গ্র্যানলুন্ডের মতে, মা–বাবা অনুপস্থিত থাকলে স্কুল কর্তৃপক্ষের শিশুদের দেখভালের অধিকার রয়েছে। তা সত্ত্বেও আইসিই যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা অমানবিক।
ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির প্রভাব
According to analysts, যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ বছর বয়সী শিশুকে আটক করার এই ঘটনা মূলত অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বিরুদ্ধে নেওয়া কঠোর নীতিরই অংশ। মিনিয়াপোলিস এলাকায় কয়েক হাজার ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তার মোতায়েন সেই কঠোর অবস্থানেরই ইঙ্গিত দেয়।
এ ধরনের অভিযানের ফলে অভিবাসী পরিবারগুলো নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছে।
মানবিক ও আইনি প্রশ্ন
এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে শিশু অধিকার, অভিবাসন আইন এবং আইন প্রয়োগের মানবিক দিক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। শিশুদের স্কুল থেকে বা পরিবারের সামনে এভাবে আটক করা কতটা যুক্তিসংগত—তা নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তীব্র হচ্ছে।
Conclusion
সার্বিকভাবে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ বছর বয়সী শিশুকে আটক করার ঘটনাটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, বরং দেশটির অভিবাসন নীতির কঠোর বাস্তবতার প্রতিফলন। এতে শিশুদের নিরাপত্তা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রশ্ন সামনে এসেছে, যা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত আলোচনার জন্ম দিতে পারে।
