পরিবর্তনের স্রোত দেখে তাদের মাথা গরম হয়ে গেছে—সাতক্ষীরায় বিশাল জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানসাতক্ষীরায় আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় হাজারো মানুষের সামনে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
WhatsApp
WhatsApp Channel
Join Now
Telegram Telegram Channel Join Now

পরিবর্তনের স্রোত দেখে তাদের মাথা গরম হয়ে গেছে: জামায়াত আমিরের বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ

পরিবর্তনের স্রোত দেখে তাদের মাথা গরম হয়ে গেছে—এই মন্তব্যের মাধ্যমে দেশের চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতা ও নির্বাচনকেন্দ্রিক উত্তেজনার দিকটি তুলে ধরেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সাতক্ষীরা ও খুলনায় আয়োজিত পৃথক নির্বাচনী জনসভায় তিনি বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরব বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশজুড়ে ন্যায়, ইনসাফ ও পরিবর্তনের পক্ষে একটি শক্তিশালী জনস্রোত তৈরি হয়েছে। এই পরিবর্তনের ঢেউ দেখে একটি গোষ্ঠী দিশেহারা হয়ে পড়েছে এবং সেখান থেকেই অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।

সাতক্ষীরার জনসভায় কী বললেন জামায়াতের আমির

মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরা সরকারি বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মানুষ এখন আর বস্তাপচা রাজনীতি দেখতে চায় না। দুর্নীতি, জুলুম ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে বলেই পরিবর্তনের এই স্রোত সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যুবসমাজ ইতোমধ্যেই রায় দিয়ে দিয়েছে যে তারা সংস্কার ও ন্যায়ভিত্তিক রাজনীতির পক্ষে। দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবস্থানও সেই পরিবর্তনের বার্তাই বহন করছে।

মায়ের সম্মান ও রাজনৈতিক শালীনতার প্রশ্ন

জামায়াতের আমির তার বক্তব্যে মায়ের সম্মানকে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রাখেন। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি নিজের মাকে সম্মান করতে জানে না, সে সমাজ বা রাষ্ট্রের অন্য নারীদেরও সম্মান করতে পারে না।

তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, কোথাও মায়েদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করা হলে জামায়াত তা মেনে নেবে না। এ বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করে জানান।

১২ ফেব্রুয়ারির ভোট ও “হ্যাঁ” বার্তা

পরিবর্তনের ভোট বনাম পুরোনো রাজনীতি

শফিকুর রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভোট হবে। একটি সংস্কারের পক্ষে, আরেকটি পরিবর্তনের বাংলাদেশের পক্ষে। তাঁর ভাষায়,

“হ্যাঁ” মানে আজাদি
“না” মানে গোলামি

তিনি দাবি করেন, “হ্যাঁ” ভোট বিজয়ী হলে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির রাজনীতির অবসান ঘটবে এবং ফ্যাসিবাদ আর ফিরে আসতে পারবে না।

সাতক্ষীরার উন্নয়ন নিয়ে প্রতিশ্রুতি

জামায়াতের আমির অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর ধরে সাতক্ষীরাকে অবহেলা করা হয়েছে। তিনি বলেন, যদি জনগণ সাতক্ষীরার চারটি আসন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যকে উপহার দেয়, তাহলে ইনসাফভিত্তিক সুশাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হবে।

তিনি দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন, জনগণের সম্পদ লুণ্ঠনকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

খুলনার জনসভায় বিএনপিকে ইঙ্গিত

খুলনায় আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে শফিকুর রহমান বিএনপিকে ইঙ্গিত করে বলেন, একদিকে ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে মায়ের গায়ে হাত তোলা হচ্ছে—এই দ্বিচারিতা জনগণ মেনে নেবে না।

তিনি বলেন, দেশের মানুষ এখন পরিষ্কারভাবে বুঝে গেছে—কার কাছে তাদের সম্মান, নিরাপত্তা ও সম্পদ সুরক্ষিত।

যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ

তরুণদের উদ্দেশে জামায়াতের আমির বলেন, তারা বেকার ভাতা দিয়ে যুবসমাজকে অপমান করতে চান না। বরং তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করে সম্মানের সঙ্গে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চান।

খুলনা অঞ্চলের কৃষি ও শিল্প পুনরুজ্জীবনের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

Conclusion

পরিবর্তনের স্রোত দেখে তাদের মাথা গরম হয়ে গেছে—এই বক্তব্য শুধু একটি মন্তব্য নয়, বরং চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রতিচ্ছবি। আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনীতিতে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে জামায়াত আমিরের বক্তব্যে।

এখন দেখার বিষয়, জনগণ ভোটের মাধ্যমে কোন পথে তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *