আইসিসিকে ব্যবস্থা নিতে বললেন গাভাস্কার, মদন লাল বললেন পাকিস্তানকে ভুগতে হবে
আইসিসিকে ব্যবস্থা নিতে বললেন গাভাস্কার, মদন লাল বললেন পাকিস্তানকে ভুগতে হবে—ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত ঘিরে এমন মন্তব্যই এখন ক্রিকেট দুনিয়ায় সবচেয়ে আলোচিত। আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে পাকিস্তান সরকারের এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভারতের একাধিক সাবেক ক্রিকেটার। তাঁদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু রাজনৈতিক বার্তা নয়, বরং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বার্থের জন্যও ক্ষতিকর।
পাকিস্তানের ম্যাচ বয়কট সিদ্ধান্ত ও তার প্রেক্ষাপট
রোববার রাতে এক বিবৃতিতে পাকিস্তান সরকার জানায়, তারা বিশ্বকাপে অংশ নিলেও ভারতের বিপক্ষে ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচ বয়কট করবে। এই সিদ্ধান্ত আসে এমন এক সময়ে, যখন ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে দশম টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে যাচ্ছে ৭ ফেব্রুয়ারি।
এর আগে বাংলাদেশ নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানালে আইসিসি বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে। আইসিসির সেই সিদ্ধান্তকে ‘দ্বিচারিতা’ বলে সমালোচনা করে পাকিস্তান। সেই ক্ষোভ থেকেই ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা আসে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
মদন লালের ক্ষোভ: “নিজেদের ক্রিকেটেরই ক্ষতি করছে পাকিস্তান”
আইসিসিকে ব্যবস্থা নিতে বললেন গাভাস্কার, মদন লাল বললেন পাকিস্তানকে ভুগতে হবে—এই বক্তব্যের প্রথম অংশটি উঠে এসেছে ভারতের বিশ্বকাপজয়ী পেসার মদন লালের মন্তব্য থেকে।
বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মদন লাল বলেন,
“আমার মনে হয়, পাকিস্তান সরকার ও পিসিবি সবাই মিলে নিজেদের ক্রিকেটেরই ক্ষতি করছে। এতে কোনো সমস্যার সমাধান হবে না।”
মদন লালের মতে, পাকিস্তান বাংলাদেশকে সমর্থন করতেই পারে, সেটা তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। কিন্তু আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ম্যাচ বর্জনের মতো পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে। তিনি বলেন,
“শেষ পর্যন্ত এর ফল ভোগ করবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান—দুই দেশই।”
স্পনসর ও দর্শকের আগ্রহ হারানোর শঙ্কা
মদন লাল আরও বলেন, আইসিসি টুর্নামেন্টে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ মানেই সবচেয়ে বেশি দর্শক ও বিজ্ঞাপনদাতার আগ্রহ। কিন্তু এই ম্যাচ না হলে স্পনসররা ধীরে ধীরে অন্য দলগুলোর দিকে ঝুঁকবে।
তার ভাষায়,
“নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলগুলোই তখন বিশ্ব ক্রিকেটের মূল আকর্ষণ হয়ে উঠবে।”
এর অর্থ, পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত আর্থিক দিক থেকেও বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।
গাভাস্কারের কড়া অবস্থান: আইসিসির হস্তক্ষেপ জরুরি
আইসিসিকে ব্যবস্থা নিতে বললেন গাভাস্কার, মদন লাল বললেন পাকিস্তানকে ভুগতে হবে—এই শিরোনামের সবচেয়ে শক্ত অংশটি এসেছে কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান সুনীল গাভাস্কারের মন্তব্য থেকে।
ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গাভাস্কার বলেন,
“টুর্নামেন্টের একেবারে আগমুহূর্তে সরে দাঁড়ানোটা বড় সমস্যা। আইসিসির এখানে হস্তক্ষেপ করা উচিত।”
গাভাস্কারের মতে, আগে থেকেই ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নিলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এমন ঘোষণা ভবিষ্যতে অন্য দলগুলোকেও একই পথ বেছে নিতে উৎসাহিত করতে পারে।
আইনি ব্যবস্থার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না গাভাস্কার
গাভাস্কার আরও বলেন, আইসিসি চাইলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও নিতে পারে। যদিও সেই পদক্ষেপের ফল কী হবে, তা নিশ্চিত নয়।
তার বক্তব্য,
“ভারতের বিপক্ষে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় আইসিসি আইনি পথ বিবেচনা করতে পারে। আইসিসি যে এতে ভীষণ অসন্তুষ্ট, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।”
এই মন্তব্যের পর থেকেই ক্রিকেট বিশ্বে আলোচনা শুরু হয়েছে—আইসিসি আসলেই কি কঠোর ব্যবস্থা নেবে?
সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে পাকিস্তান?
একই সঙ্গে গাভাস্কার সম্ভাবনার কথাও বলেছেন। তিনি মনে করেন, বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া বাড়লে পাকিস্তান সরকার তাদের অবস্থান বদলাতে পারে।
তিনি বলেন,
“পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা আগেও অবসর ঘোষণা দিয়ে কয়েক দিনের মধ্যে ফিরে এসেছেন। ১৫ ফেব্রুয়ারির আগেও তেমন কিছু ঘটতে পারে।”
এমনকি পাকিস্তানের সমর্থকরাও সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন বলে মনে করেন গাভাস্কার।
বিশ্বকাপে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, এই বয়কট সিদ্ধান্ত শুধু ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ নয়, পুরো বিশ্বকাপের পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে।
আইসিসির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন
টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক ক্ষতি
রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রভাব ক্রিকেটে ঢুকে পড়া
সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন কেবল দ্বিপাক্ষিক ইস্যু নয়।
Conclusion
সব দিক বিবেচনায় বলা যায়, আইসিসিকে ব্যবস্থা নিতে বললেন গাভাস্কার, মদন লাল বললেন পাকিস্তানকে ভুগতে হবে—এই মন্তব্য শুধু আবেগ নয়, বরং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শাসনের ভবিষ্যৎ নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলছে।
আইসিসি কী সিদ্ধান্ত নেয়, পাকিস্তান অবস্থান বদলায় কি না এবং শেষ পর্যন্ত ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় কি না—এ সবকিছুর দিকেই এখন ক্রিকেট বিশ্বের নজর।
