বাংলাদেশকে যে দুই ভেন্যুতে খেলার প্রস্তাব দিতে পারে আইসিসি
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষ থেকে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো ভারত থেকে অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার আবেদন জানানো হলেও, সেটি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহল। ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আইসিসি বাংলাদেশকে ভারতের ভেতরেই বিকল্প ভেন্যুতে ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব দিতে পারে।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, শ্রীলঙ্কার পরিবর্তে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলের দুটি শহর—চেন্নাই ও তিরুবনন্তপুরম—বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজনের জন্য বিবেচনায় রয়েছে। এতে করে টুর্নামেন্টের লজিস্টিক কাঠামো অক্ষুণ্ন থাকবে এবং আয়োজকদের বাড়তি জটিলতায় পড়তে হবে না।
বিসিবির ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন কেন?
ভারতে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিসিবি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) একাধিকবার চিঠি দেয়। বিসিবির অনুরোধ ছিল—টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হোক।
এই উদ্বেগের সূত্রপাত ঘটে গত ৩ জানুয়ারি, যখন উগ্রপন্থীদের হুমকির মুখে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া হয়। বিসিবির যুক্তি ছিল, যদি একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে পুরো বাংলাদেশ দল, সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও দর্শকদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়।
আইসিসি কেন শ্রীলঙ্কার প্রস্তাবে সাড়া দিচ্ছে না?
আইসিসির ধারণা, টুর্নামেন্ট শুরুর একেবারে শেষ সময়ে এক দেশ থেকে আরেক দেশে ভেন্যু পরিবর্তন করা অত্যন্ত জটিল।
এর পেছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে—
ভিসা ও ভ্রমণ পরিকল্পনা
সম্প্রচার সূচি
টিকিট বিক্রি
নিরাপত্তা ও হোটেল ব্যবস্থাপনা
স্পনসর ও বাণিজ্যিক চুক্তি
এসব কারণে আইসিসি মনে করছে, শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ সরিয়ে নেওয়া বাস্তবসম্মত নয়।
বাংলাদেশের জন্য যে দুই ভেন্যু প্রস্তাব দিতে পারে আইসিসি
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ও ক্রিকেটভিত্তিক পোর্টালগুলোর তথ্যমতে, আইসিসি বাংলাদেশের জন্য ভারতের ভেতরেই দুটি বিকল্প ভেন্যু বিবেচনায় রেখেছে—
1️⃣ চেন্নাই
তামিলনাড়ু ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (TNCA) পরিচালিত
নিরাপত্তা ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী
বড় আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের অভিজ্ঞতা রয়েছে
2️⃣ তিরুবনন্তপুরম
কেরালা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (KCA) পরিচালিত
তুলনামূলক শান্ত অঞ্চল
সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ সফলভাবে আয়োজন করেছে
আইসিসি ও সহ-আয়োজক বিসিসিআই ইতোমধ্যেই এই দুই রাজ্যের ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে জানা গেছে।
বিসিবি সভাপতির অবস্থান
বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম আগেই স্পষ্ট করে জানিয়েছেন,
“ভারতের ভেতরে অন্য কোনো ভেন্যুতে খেলা হলেও সেটি মূলত ভারতে খেলারই সমান।”
অর্থাৎ, বিসিবি চাইছে না যে শুধু শহর বদলে সমস্যার সমাধান দেখানো হোক। তারা চাইছে নিরাপত্তা বিষয়ে স্পষ্ট ও দৃশ্যমান নিশ্চয়তা।
বর্তমান সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের ম্যাচ
বর্তমান সূচি অনুযায়ী, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া দশম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে—
বাংলাদেশের প্রথম তিনটি ম্যাচ: কলকাতা
শেষ গ্রুপ ম্যাচ: মুম্বাই
তবে ভেন্যু পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হলে এই সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
আইসিসির সম্ভাব্য যুক্তি কী?
এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিসি বাংলাদেশের নিরাপত্তা উদ্বেগের জবাবে একটি উদাহরণ তুলে ধরতে পারে।
রোববার গুজরাটে ভারত-নিউজিল্যান্ড সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে আম্পায়ারিং করেছেন বাংলাদেশের শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত। আইসিসি এটিকে দেখিয়ে বলতে পারে—
“বাংলাদেশি কর্মকর্তারা নিরাপদে ভারতে কাজ করছেন, তাই টিমের নিরাপত্তা নিয়েও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।”
সিদ্ধান্ত কবে আসতে পারে?
ক্রিকবাজের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে লজিস্টিক সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশের অনুরোধ মানার সম্ভাবনা খুবই কম।
আইসিসি আজ বা খুব শিগগিরই বিসিবিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
Conclusion
সবশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় বলা যায়,
বাংলাদেশকে যে দুই ভেন্যুতে খেলার প্রস্তাব দিতে পারে আইসিসি—চেন্নাই ও তিরুবনন্তপুরম—সেটিই এখন সবচেয়ে বাস্তবসম্মত বিকল্প।
তবে বিসিবি এই প্রস্তাবে কতটা সন্তুষ্ট হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ও স্বচ্ছ যোগাযোগই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের চূড়ান্ত অবস্থান।
