হাদির মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও রাজনৈতিক আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ শরীফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করছে বাংলাদেশ। আজ শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সারা দেশে এই রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে। শোক উপলক্ষে দেশের সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতেও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় শোকের এই সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোক ও আবেগের প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার জাতির উদ্দেশে ভাষণ
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস হাদির মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেন। ভাষণে তিনি হাদির অবদান স্মরণ করে বলেন, ওসমান হাদি ছিলেন ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের এক অগ্রণী সৈনিক।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন,
“ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী সংগ্রামের এই অমর সৈনিককে মহান রাব্বুল আলামিন শহীদ হিসেবে কবুল করুন—এই দোয়া করি।”
তিনি আরও বলেন, হাদির এই অকাল মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিসরে এক অপূরণীয় ক্ষতি।
রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া
হাদির মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণার পরপরই দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা শোক প্রকাশ করেছেন। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকবার্তা দিয়ে হাদির সংগ্রামী ভূমিকার কথা স্মরণ করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওসমান হাদি ছিলেন এমন একজন নেতা, যিনি তরুণ সমাজকে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তার বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান বরাবরই আলোচিত ছিল।
মরদেহ দেশে পৌঁছানো
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটে হাদির মরদেহ বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট (বিজি-৫৮৫) সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিমানবন্দরে তার মরদেহ গ্রহণ করতে পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক সহকর্মী ও অসংখ্য অনুসারী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
জানাজার সময় ও স্থান
আজ শনিবার দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় এই জানাজা সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ইনকিলাব মঞ্চের নেতা নাইম ইবনে জহির গণমাধ্যমকে জানান,
“শনিবার বাদ জোহর সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।”
দাফনের সিদ্ধান্ত
পরিবারের ইচ্ছানুযায়ী, জানাজা শেষে ওসমান হাদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে সমাহিত করা হবে। এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই প্রতীকী ও সম্মানজনক বলে মনে করছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দাফন অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে।
হাদির রাজনৈতিক পরিচয় ও অবদান
ওসমান হাদি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন। তিনি বিভিন্ন গণআন্দোলনে সরব ভূমিকা পালন করেছেন এবং রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে আলোচনায় ছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, তার মৃত্যু শুধু একটি ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়; এটি দেশের চলমান রাজনৈতিক আন্দোলনের জন্যও একটি বড় শূন্যতা তৈরি করেছে।
জাতির অপূরণীয় ক্ষতি
হাদির মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক পালন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তার আদর্শ, বক্তব্য ও সংগ্রামী চেতনা দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মত দিয়েছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
রাষ্ট্রীয় শোকের এই দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে দোয়া ও স্মরণসভা আয়োজন করা হচ্ছে।
