ঢাকায় শীতের সকালে ঘন কুয়াশার মধ্যে গাছের পাতায় জমে থাকা শিশিরঘন কুয়াশা ও হিম বাতাসে ঢাকায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে, গাছের পাতায় জমেছে শিশির।
WhatsApp
WhatsApp Channel
Join Now
Telegram Telegram Channel Join Now

ঢাকায় শীতের তীব্রতা বাড়ছে

রাজধানী ঢাকায় শীত যেন পুরোপুরি জেঁকে বসেছে। ভোরের দিকে হিম বাতাস, সঙ্গে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা—সব মিলিয়ে শীতের অনুভূতি আগের চেয়ে অনেক বেশি তীব্র হয়ে উঠেছে। শীতের এই পরিস্থিতিতে রাজধানীর সাধারণ মানুষকে পড়তে হচ্ছে বাড়তি ভোগান্তিতে। বিশেষ করে সকালবেলা কাজে বের হওয়া মানুষ, শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবীরা শীতের কারণে বেশ কষ্ট অনুভব করছেন।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি শীত মৌসুমে তুলনামূলকভাবে কম বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

আবহাওয়া অধিদফতরের সর্বশেষ তথ্য

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৬টায় রাজধানী ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল প্রায় ১৩ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল প্রায় ৯৯ শতাংশ। বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে শীতের অনুভূতি আরও বেশি তীব্র হয়ে উঠেছে।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, আর্দ্রতা বেশি থাকলে শরীর থেকে তাপ দ্রুত বেরিয়ে যায়, ফলে প্রকৃত তাপমাত্রার তুলনায় ঠান্ডা বেশি অনুভূত হয়। এজন্য ঢাকায় শীতের প্রকোপ সাধারণ মানুষের কাছে আরও বেশি মনে হচ্ছে।

কুয়াশা ও হিম বাতাসে ভোগান্তি

শনিবার সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। কুয়াশার কারণে অনেক জায়গায় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে সড়ক ও নৌপথে চলাচলে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে ভোর ও সকালবেলার সময় কুয়াশা বেশি থাকায় যানবাহন চলাচলে ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। অনেক স্থানে হেডলাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চলতে দেখা গেছে।

দিনের তাপমাত্রা ও বাতাসের অবস্থা

আবহাওয়া অধিদফতর আরও জানায়, পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে হালকা বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। এই হিম বাতাস রাজধানীতে শীতের অনুভূতি আরও বাড়িয়ে তুলছে।

দিনের বেলায় তাপমাত্রা খুব একটা বাড়বে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে সারাদিনই শীতের প্রভাব বজায় থাকতে পারে। আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে, তবে বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

জনজীবনে শীতের প্রভাব

ঢাকায় শীতের তীব্রতার কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ ও খেটে খাওয়া শ্রমজীবীরা। ফুটপাতে বসবাসকারী মানুষ, রিকশাচালক ও দিনমজুররা শীত থেকে রক্ষা পেতে আগুন জ্বালিয়ে বা অতিরিক্ত কাপড় ব্যবহার করছেন।

শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে শীতজনিত রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন, শীতের সময় গরম কাপড় ব্যবহার, গরম খাবার গ্রহণ এবং প্রয়োজন ছাড়া ভোরে বাইরে বের না হওয়ার।

সামনে কী হতে পারে আবহাওয়া?

আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী কয়েকদিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে রাত ও ভোরের দিকে তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে।

তবে বড় ধরনের শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা আপাতত নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। তবুও সাধারণ মানুষকে শীতজনিত সতর্কতা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

দ্বারা Saimun Sabit