ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের একজন শীর্ষ কর্মকর্তাইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন প্রতিরক্ষা বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তা।
WhatsApp
WhatsApp Channel
Join Now
Telegram Telegram Channel Join Now

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলা রাষ্ট্র পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে নয়: ট্রাম্প প্রশাসন

ভূমিকা

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলাকে কেন্দ্র করে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই সামরিক অভিযান কোনোভাবেই ইরানে সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে চালানো হয়নি। বরং ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমকে সীমিত ও নিরসন করাই ছিল অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এই অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যদিও ইরান একে সরাসরি আগ্রাসন হিসেবে দেখছে।

 ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলা কেন চালানো হলো

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলা শুধুমাত্র পারমাণবিক প্রকল্পকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছিল।

জেডি ভ্যান্স বলেন,

“আমরা ইরানের পারমাণবিক প্রকল্পকে উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে দিয়েছি। এখন আমাদের লক্ষ্য কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখা।”

তিনি আরও স্পষ্ট করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে যেতে চায় না।

 ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান কী

ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলা কোনো রাজনৈতিক সরকার পরিবর্তনের কৌশল নয়। প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানান—

“আমরা কোনো ইরানি সৈন্য বা সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করিনি। এটি রাষ্ট্র পরিবর্তনের অভিযান নয়।”

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সামরিক লক্ষ্যবস্তু বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে, যাতে বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যায়।

কোন কোন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়

শনিবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এগুলো হলো—

ফরদো
নাতাঞ্জ
ইসফাহান

 

এই স্থাপনাগুলো ইরানের পারমাণবিক প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে পশ্চিমা দেশগুলো মনে করে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, হামলার ফলে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অপারেশন মিডনাইট হ্যামার কী

যুক্তরাষ্ট্রের যুগ্ম চিফস অব স্টাফের প্রধান জেনারেল ড্যান কেন জানান, অভিযানের নাম ছিল “অপারেশন মিডনাইট হ্যামার”। এই অভিযানে অত্যাধুনিক B-2 বোমারু বিমান ব্যবহার করা হয়।

তিনি বলেন,

“আমাদের বিমানগুলো প্রায় ১৮ ঘণ্টা উড়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে এবং ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কোনোভাবেই এগুলোকে আটকাতে পারেনি।”

এই বক্তব্যের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক সক্ষমতার বার্তা বিশ্বকে দিতে চেয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

ইরানের প্রতিক্রিয়া ও পাল্টা হুমকি

ইরান এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলা কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনাকে ধ্বংস করে দিয়েছে।

তিনি বলেন,

“আমাদের পারমাণবিক প্রকল্প বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত। মার্কিন হামলা একটি বড় লাল রেখা অতিক্রম করেছে।”

ইরান এখনো পাল্টা আঘাতের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

মানবিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি

ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রধান পির হোসেন কোলিভান্দ জানান, হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক এলাকা এড়িয়ে হামলা চালিয়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্টের বক্তব্য

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন,

“যুদ্ধ বা হুমকির মাধ্যমে ইরানের বেসামরিক পারমাণবিক প্রকল্পের অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না।”

তিনি জানান, ইরান তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও বিশ্লেষণ

বিশ্ব রাজনীতিতে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলা নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এটি মধ্যপ্রাচ্যে বড় সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

জাতিসংঘে কর্মরত সাংবাদিক আলান ফিশার বলেন,

“মার্কিন হামলা ছিল সুপরিকল্পিত, তবে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ এখনো পরিষ্কার নয়। বার্তাটি পরিষ্কার—যুক্তরাষ্ট্র শক্তি প্রদর্শন করছে।”

ফরেভার ওয়ার’ প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন

ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র আর কোনো দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়াবে না। কিন্তু সমালোচকদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলা সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এই পদক্ষেপ অঞ্চলটিকে আরও বড় সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

উপসংহার

সব মিলিয়ে বলা যায়, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলা শুধু সামরিক নয়, এটি একটি কৌশলগত ও রাজনৈতিক বার্তা। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা যুদ্ধ বা রাষ্ট্র পরিবর্তন চায় না, কিন্তু ইরানের প্রতিক্রিয়া ও পাল্টা হুমকি পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত করে তুলছে। আগামী দিনে কূটনীতি না সংঘাত—কোন পথে যাবে পরিস্থিতি, সেটাই এখন বিশ্ববাসীর বড় প্রশ্ন।

দ্বারা MD Tanvir Hasan Refat