মন্ত্রিপাড়া মন্ত্রীদের আবাসন এলাকার সবুজে ঢাকা সড়ক ও সরকারি ভবনসংলগ্ন রাস্তার দৃশ্যঢাকার মন্ত্রিপাড়া এলাকায় সরকারি আবাসনের পাশ দিয়ে সবুজে ঘেরা সড়কের দৃশ্য।
WhatsApp
WhatsApp Channel
Join Now
Telegram Telegram Channel Join Now

মন্ত্রিপাড়া মন্ত্রীদের আবাসন: ৭১টি সরকারি বাড়ি নির্ধারণ

ঢাকার প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত মন্ত্রিপাড়া দীর্ঘদিন ধরেই মন্ত্রীদের আবাসনের জন্য নির্ধারিত। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই এলাকাগুলোর সরকারি বাড়ি ব্যবহারে নীতিগত অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতি ঠিক করতেই মন্ত্রিপাড়া মন্ত্রীদের আবাসন হিসেবে সংরক্ষণের লক্ষ্যে ৭১টি সরকারি বাংলো ও ফ্ল্যাট নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

কেন মন্ত্রিপাড়া মন্ত্রীদের আবাসন নির্দিষ্ট করা হচ্ছে

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সরকারি আবাসন পরিদপ্তর জানিয়েছে, মন্ত্রিপাড়ার অনেক সরকারি বাড়িতে বর্তমানে বিচারপতি, উপদেষ্টা, আমলা ও সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিরা বসবাস করছেন। যদিও এসব পদধারীদের জন্য আলাদা আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে।

এই বাস্তবতায় ভবিষ্যতে মন্ত্রীদের জন্য আবাসন সংকট দেখা দিতে পারে। তাই আগেভাগেই মন্ত্রিপাড়া মন্ত্রীদের আবাসন নির্দিষ্ট করে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কোথায় কোথায় রয়েছে ৭১টি সরকারি বাড়ি

সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্ধারিত ৭১টি সরকারি বাড়ি রয়েছে—

বেইলি রোড: ১৯টি
মিন্টো রোড: ১টি
হেয়ার রোড: একাধিক
গুলশান: ৫টি
ধানমন্ডি: ৫টি

 

আগে নির্ধারিত ৪১টির সঙ্গে নতুন করে ৩০টি বাড়ি যুক্ত করা হয়েছে।

বর্তমানে কারা বসবাস করছেন

বর্তমানে মন্ত্রিপাড়ার অনেক বাড়িতে বসবাস করছেন—

উপদেষ্টা
বিচারপতি
উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা
গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদধারীরা

 

বিশেষ করে বেইলি রোডের মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট–এর ৩০টি বড় ফ্ল্যাট এখন মন্ত্রী ছাড়া অন্যদের দখলে রয়েছে।

কমিটি ও প্রতিবেদনের সিদ্ধান্ত

মন্ত্রীদের জন্য নতুন করে আবাসন নির্ধারণ করতে গত ২ নভেম্বর সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামানকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটি তাদের প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে মন্ত্রিপাড়া মন্ত্রীদের আবাসন হিসেবে ৭১টি বাড়ি এয়ারমার্ক করার সুপারিশ করেছে। এখন এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।

পুরোনো প্রজ্ঞাপন বাতিলের পটভূমি

২০১৩ সালে মন্ত্রীদের জন্য ৪১টি সরকারি বাড়ি নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে সেই নীতির বাস্তব প্রয়োগ হয়নি। গত বছরের ২২ অক্টোবর সেই প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয়।

এরপর বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে স্পষ্ট নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক গুরুত্ব

সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, মন্ত্রিপাড়ায় বিভিন্ন শ্রেণির ব্যক্তির বসবাসের ফলে—

নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে
প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হচ্ছে
আবাসন নীতিতে অস্পষ্টতা তৈরি হচ্ছে

 

এ কারণেই মন্ত্রিপাড়া মন্ত্রীদের আবাসন হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

সামনে কী হতে পারে

নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে—

মন্ত্রী ছাড়া অন্য কেউ মন্ত্রিপাড়ার বাড়িতে থাকতে পারবেন না
বর্তমানে বসবাসকারীদের বিষয়ে আলাদা সিদ্ধান্ত হবে
ভবিষ্যতে আবাসন সংকট এড়ানো যাবে

 

উপসংহার

সব দিক বিবেচনায় মন্ত্রিপাড়া মন্ত্রীদের আবাসন হিসেবে ৭১টি সরকারি বাড়ি নির্ধারণ একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। এতে ভবিষ্যৎ মন্ত্রিসভার আবাসন সমস্যা কমবে এবং সরকারি আবাসন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরবে।

দ্বারা Saimun Sabit