ওসমান হাদি হত্যাওসমান হাদির মৃত্যুর প্রতিবাদে শাহবাগ এলাকায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ।
WhatsApp
WhatsApp Channel
Join Now
Telegram Telegram Channel Join Now

ওসমান হাদি হত্যা দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে এক গভীর ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে মৃত্যুবরণ করেন শরিফ ওসমান হাদি। তার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই শিক্ষার্থী, নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন পেশার মানুষ রাজপথে নেমে আসেন। রাত পেরিয়ে সকালেও শাহবাগ মোড়ে তাদের বিক্ষোভ চলমান থাকে।

 হামলার ঘটনার বিবরণ

শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনাটি ঘটে ১২ ডিসেম্বর। তিনি তখন বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগে ব্যস্ত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান—

একটি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলি ছোড়া হয়
গুলিটি সরাসরি হাদির মাথায় আঘাত করে
ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন

এই হামলাকে অনেকেই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে করছেন।

চিকিৎসা ও মৃত্যু 

হামলার পর হাদিকে দ্রুত—

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
এভারকেয়ার হাসপাতাল, ঢাকা

এ দুটি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করা হয়। তবে অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানেই বৃহস্পতিবার রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

 ওসমান হাদি হত্যা কেবল একটি ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং এটি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

 শাহবাগে রাতভর বিক্ষোভ 

হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই—

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চত্বর
রাজু ভাস্কর্য
শাহবাগ মোড়

এই এলাকাগুলোতে হাজারো মানুষ জড়ো হন।

আন্দোলনের চিত্র 

রাত থেকেই শাহবাগ অবরোধ
ভোর ৭টায়ও অবস্থান কর্মসূচি
মাইকে আজান দিয়ে ফজরের নামাজ আদায়

এই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক সংহতি 

এই বিক্ষোভে অংশ নেন—

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা
বুয়েটের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী
জুলাই মঞ্চের কর্মী-সমর্থকরা

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন—

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম
সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ
মাহফুজ আলম
জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতৃবৃন্দ

তারা ওসমান হাদি হত্যা মামলার দ্রুত বিচার দাবি করেন।

সহিংসতার ঘটনা ও বিতর্ক 

বিক্ষোভের একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

যা ঘটেছে

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে

  1. কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবনে
  2. ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

এই ঘটনায় আন্দোলনের নৈতিক অবস্থান নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়।

গ্রামে শোক ও বিক্ষোভ

হাদির গ্রামের বাড়িতে মৃত্যুর সংবাদ পৌঁছালে—

শোকের ছায়া নেমে আসে
স্থানীয়রা সড়ক অবরোধ করে
দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়

এতে বোঝা যায়, ওসমান হাদি হত্যা শুধু রাজধানী নয়, সারাদেশে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

 আন্দোলনের ইতিবাচক দিক

 বিচারহীনতার বিরুদ্ধে গণসচেতনতা
  শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান
  নাগরিক সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ
  রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে আলোচনা

 আন্দোলনের নেতিবাচক দিক

সহিংসতা ও ভাঙচুর
গণমাধ্যম স্থাপনায় হামলা
সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ
আন্দোলনের মূল দাবি আড়ালে চলে যাওয়ার ঝুঁকি

 উপসংহার

ওসমান হাদি হত্যা একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়—দেশে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। শাহবাগে রাত পেরিয়ে সকাল পর্যন্ত চলা এই বিক্ষোভ প্রমাণ করে, মানুষ আর নীরব থাকতে চায় না। তবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমেই এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব।

আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—
দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না।

দ্বারা Saimun Sabit