মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: ট্রাম্পের ‘ভয়াবহ হামলার’ হুমকি, রকেট আতঙ্কে থমথমে দুবাই
WhatsApp
WhatsApp Channel
Join Now
Telegram Telegram Channel Join Now

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। আজ শনিবার এক বিস্ফোরক বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘চরম আঘাত’ করার ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্পের এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই বিমানবন্দরটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে বর্তমানে সীমিত পরিসরে পুনরায় কাজ শুরু হয়েছে।

“আজ ইরানকে কঠোর আঘাত করা হবে”: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ট্রাম্প আজ তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আজ ইরানকে অত্যন্ত কঠোরভাবে আঘাত করা হবে!” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এর আগে যেসকল এলাকা বা গোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি, এখন তাদের ওপর ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস ও নিশ্চিত মৃত্যু’ নামিয়ে আনা হতে পারে।

ট্রাম্প ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যের ‘বুলি’ (Bully) বা জবরদস্তিকারী নয় বরং ‘পরাজিত শক্তি’ (The Loser of the Middle East) হিসেবে অভিহিত করেছেন। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত ইরান নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ না করবে, ততক্ষণ এই অভিযান বা ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ (Operation Epic Fury) থামবে না।

দুবাই বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও বর্তমান অবস্থা

আজ সকালে ইরান থেকে ধেয়ে আসা একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মুখে পড়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ১৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১১৯টি ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।

তবে এই উত্তেজনার মাঝে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (DXB) আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিমানবন্দরের কাছে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েক ঘণ্টার জন্য সব ধরনের উড্ডয়ন ও অবতরণ স্থগিত করা হয়। এমিরেটস এয়ারলাইন্স তাদের সকল ফ্লাইট বাতিল করে যাত্রীদের বিমানবন্দরে না আসার অনুরোধ জানায়।

বিকেলের আপডেট: দুবাই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় অপারেশন ‘আংশিক’ চালু করা হয়েছে। তবে স্বাভাবিক সক্ষমতার মাত্র অর্ধেক (ঘণ্টায় ৪৮টি ফ্লাইট) পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে। যাত্রীদেরকে বলা হয়েছে, এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে নিশ্চিত কোনো বার্তা না পেলে যেন তারা বিমানবন্দরে না যান।

যুদ্ধের পটভূমি: ১,৩০০ ছাড়ালো প্রাণহানি

গত এক সপ্তাহ ধরে চলা এই সংঘাতের সূচনা হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত হামলার মাধ্যমে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে অসমর্থিত বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রতিবেশি দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চেয়ে জানিয়েছেন যে, যে দেশ থেকে হামলা আসবে না, ইরান তাদের আক্রমণ করবে না। কিন্তু ট্রাম্প এই ক্ষমা প্রার্থনা প্রত্যাখ্যান করে যুদ্ধের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন।

ইরান রেড ক্রিসেন্টের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত যুদ্ধে ইরানে ১,৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, কুয়েতে ইরানি ড্রোন হামলায় মার্কিন বাহিনীর কয়েকজন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রভাব

মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীলতা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে দুবাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্টে ফ্লাইট বিঘ্নিত হওয়ায় হাজার হাজার বাংলাদেশি যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। তেলের দাম এবং রেমিট্যান্স প্রবাহের ওপর এই যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *