ভূমিকা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে এবার আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সংখ্যক অস্ত্রধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, নির্বাচনের নিরাপত্তাব্যবস্থা এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে ব্যালট বাক্স ছিনতাই বা সহিংসতার কোনো সুযোগ না থাকে।
নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্য
বৃহস্পতিবার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা ও মতবিনিময় সভা’-তে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এসব তথ্য জানান। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম এবং সভাপতিত্ব করেন সিআইডি প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহ।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, অতীতের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাধারণত প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে একজন অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করতেন। তবে এবার ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা হয়েছে।
প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কতজন সদস্য থাকবে
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কমপক্ষে পাঁচজন অস্ত্রধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এর মধ্যে—
২ জন অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্য
৩ জন অস্ত্রধারী আনসার সদস্য
এই পাঁচজন সদস্য সরাসরি ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ও আশপাশে দায়িত্ব পালন করবেন, যাতে ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্ন ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।
গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও জানান, যেসব ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ বা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে, সেখানে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে। এসব কেন্দ্রে—
৩ জন অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্যসহ
মোট ৬ জন অস্ত্রধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্বে থাকবেন
এছাড়া প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে অস্ত্রবিহীন ১০ জন আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে, যাদের মধ্যে—
৬ জন পুরুষ আনসার
৪ জন নারী আনসার
লাঠিসহ এসব আনসার সদস্য ভোটারদের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়তা করবেন।
শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এই নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে সর্বোচ্চ সততা, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনপূর্ব, নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন-পরবর্তী প্রতিটি ধাপেই পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অনলাইনে গুজব, ভুয়া খবর ও মিথ্যাচার প্রতিরোধে সিআইডিকে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে।
অনলাইন গুজব দমনে সিআইডির প্রস্তুতি
সিআইডি প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহ জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিআইডির মোট জনবলের প্রায় ৯০ শতাংশ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচনপূর্ব ও পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নজরদারি চালাবে সিআইডির সাইবার ইউনিট।
তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে সিআইডি সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।
উপসংহার
সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাড়তি অস্ত্রধারী সদস্য মোতায়েন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা এবং অনলাইন গুজব দমনে কড়া নজরদারি—সব মিলিয়ে নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
