বিএনপি শরিকদের সাথে সমঝোতা: আসন পুনর্মূল্যায়ন ও রাষ্ট্রীয় পদে আশ্বাস
বিএনপি শরিকদের সাথে সমঝোতা গড়ে তুলতে সক্রিয়ভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে দলটি। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের মধ্যে যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে ধারাবাহিক বৈঠকে বসেছে বিএনপি। রাজনৈতিক ঐক্য ধরে রাখার লক্ষ্যে আসন ছাড়, প্রার্থিতা পুনর্মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে মূল্যায়নের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপির কাছে বিএনপি শরিকদের সাথে সমঝোতা এখন কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
শরিকদের ক্ষোভ ও বিএনপির উদ্যোগ
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে প্রার্থী ঘোষণার পর শরিক জোটগুলোর মধ্যে একাধিক আসন নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়। অভিযোগ ওঠে—শরিকদের সঙ্গে যথাযথ আলোচনা ছাড়াই প্রার্থিতা ঘোষণা করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি শরিকদের সাথে সমঝোতা তৈরির উদ্যোগ নেয় দলটির নীতিনির্ধারকরা।
এ লক্ষ্যে গতকাল গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে শরিক জোটগুলোর সঙ্গে পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
আসন ছাড় ও পুনর্মূল্যায়নের বার্তা
বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, যেসব আসনে শরিকদের বিজয়ের বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে বিএনপি প্রার্থিতা ছাড় দিতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে যেসব আসনে ইতোমধ্যে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে দু-একটি আসনে পুনর্মূল্যায়ন করা হতে পারে বলেও আশ্বস্ত করা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান বিএনপি শরিকদের সাথে সমঝোতা প্রক্রিয়াকে বাস্তব ভিত্তি দিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় পদে মূল্যায়নের প্রতিশ্রুতি
বিএনপি আরও জানিয়েছে, কৌশলগত কারণে সব শরিককে নির্বাচনী আসন দেওয়া সম্ভব না হলেও, ক্ষমতায় গেলে তাদের সংসদের উচ্চকক্ষসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে যোগ্যতা অনুযায়ী পদায়ন করা হবে।
দলটির ভাষ্য, এতে করে শরিকদের রাজনৈতিক অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে এবং বিএনপি শরিকদের সাথে সমঝোতা দীর্ঘমেয়াদি রূপ পাবে।
সমমনা ও ১২ দলীয় জোটের বৈঠক
দুপুরে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট এবং বিকেলে ১২ দলীয় জোটের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করে বিএনপি। উভয় বৈঠকে দলের পক্ষে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
শরিক নেতারা তাদের দাবি ও ক্ষোভ স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন এবং দ্রুত সমাধানের তাগিদ দেন।
নির্দিষ্ট আসন নিয়ে দাবি
সমমনা জোট নড়াইল-২ আসনটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানায়। অন্যদিকে ১২ দলীয় জোট কুষ্টিয়া-২, কিশোরগঞ্জ-৫ এবং পিরোজপুর-১ আসনের বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়।
বিএনপি নেতারা এসব দাবির বিষয়ে আশ্বস্ত করে বলেন, দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন
বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি শরিকদের সাথে সমঝোতা ছাড়া জোট রাজনীতি টেকসই করা কঠিন। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার বিএনপি আলোচনার পথেই এগোচ্ছে, যা রাজনৈতিকভাবে ইতিবাচক ইঙ্গিত।
উপসংহার
সব মিলিয়ে বলা যায়, আসন বণ্টন ইস্যুতে সৃষ্ট অস্বস্তি কাটিয়ে উঠতে বিএনপি শরিকদের সাথে সমঝোতা গড়ে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আলোচনা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে জোটের ঐক্য ধরে রাখা গেলে তা আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির জন্য বড় শক্তিতে পরিণত হতে পারে।
