Homeসর্বশেষভারতীয়দের ওপরই কি বেশি প্রভাব পড়বে? যুক্তরাষ্ট্রে H-1B ভিসার প্রস্তাবিত ফি ১...

ভারতীয়দের ওপরই কি বেশি প্রভাব পড়বে? যুক্তরাষ্ট্রে H-1B ভিসার প্রস্তাবিত ফি ১ লাখ ৩ হাজার ডলার

WhatsApp WhatsApp Channel Join Now
Telegram Telegram Channel Join Now

বিশ্ব ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য H-1B ভিসার নির্দিষ্ট আবেদনে ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলার ফি আরোপের প্রস্তাব করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। সোমবার প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টারের প্রস্তাবিত বিধিতে এ তথ্য উঠে এসেছে। একই সঙ্গে F-1 ভিসাধারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের Optional Practical Training (OPT) কর্মসূচির ক্ষেত্রেও ১ লাখ ডলার পর্যন্ত নতুন ফি আরোপের প্রস্তাব বিবেচনা করছে মার্কিন প্রশাসন। (Reuters)

তবে প্রস্তাবিত H-1B ফি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এটি একটি rulemaking প্রক্রিয়ার অংশ এবং প্রকাশের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জনসাধারণ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতামত নেওয়া হবে। ফলে এই মুহূর্তে নতুন ফি কার্যকর হয়েছে—এমনটি বলা যাচ্ছে না। (AILA)

H-1B ভিসার ফি কেন এত বাড়ানোর প্রস্তাব?

মার্কিন প্রশাসনের প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্দিষ্ট নতুন H-1B petition-এর ক্ষেত্রে ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলারের ফি আরোপ করা হবে। এই অর্থের পরিমাণ বর্তমানে প্রচলিত সাধারণ H-1B আবেদনসংক্রান্ত কয়েক হাজার ডলারের ফি থেকে বহুগুণ বেশি।

প্রস্তাবটি এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের H-1B কর্মসূচি নিয়ে বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগ, মার্কিন নাগরিকদের চাকরির সুযোগ এবং অভিবাসন নীতি নিয়ে বিতর্ক চলছে। প্রশাসনের যুক্তি হলো, অতিরিক্ত খরচের মাধ্যমে মার্কিন শ্রমবাজারে বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করা এবং অভিবাসন ব্যবস্থার ব্যয় মেটাতে অর্থ সংগ্রহ করা। (Reuters)

ভারতীয়দের ওপর প্রভাবের আশঙ্কা কেন?

প্রস্তাবিত ফি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ভারতীয় H-1B কর্মীরা। এর প্রধান কারণ, যুক্তরাষ্ট্রে H-1B কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের মধ্যে ভারতীয়দের অংশ অত্যন্ত বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (USCIS)-এর ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত H-1B আবেদনগুলোর প্রায় ৭১ শতাংশের সুবিধাভোগী ছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তিরা। ফলে নতুন করে ছয় অঙ্কের ফি আরোপ করা হলে ভারতীয় দক্ষ কর্মী এবং তাঁদের নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর উল্লেখযোগ্য আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। (NDTV)

তবে প্রস্তাবটি শুধু ভারতীয়দের লক্ষ্য করে করা হয়েছে—এমন কোনো সরকারি ঘোষণা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। H-1B কর্মসূচির আওতায় থাকা অন্যান্য দেশের নাগরিকরাও একই নীতির আওতায় পড়তে পারেন।

OPT কর্মসূচির ক্ষেত্রেও বড় ফি আসতে পারে

H-1B-এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষ করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্যও নতুন আর্থিক বাধা তৈরি হতে পারে। Department of Homeland Security (DHS) F-1 ভিসাধারীদের Optional Practical Training বা OPT কর্মসূচির জন্য ১ লাখ ডলার ফি আরোপের প্রস্তাব বিবেচনা করছে বলে অভিবাসনবিষয়ক প্রতিষ্ঠান Fragomen জানিয়েছে। প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত নয় এবং এর বিস্তারিত পরবর্তীতে প্রকাশ করা হতে পারে। (NDTV)

OPT-এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষ করার পর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিজেদের পড়াশোনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বাস্তব কর্মঅভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ পান। তাই নতুন ফি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা শেষে সেখানে কাজ করতে আগ্রহী বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপরও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

H-1B কর্মীদের ৬০ দিনের সুযোগ নিয়েও পরিবর্তনের প্রস্তাব

H-1B কর্মীদের চাকরি হারানোর পর নতুন কর্মসংস্থান খোঁজার জন্য বর্তমানে নির্দিষ্ট শর্তে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের grace period রয়েছে। এই সময়সীমা বাতিল বা পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়েও মার্কিন প্রশাসন কাজ করছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

বর্তমান ব্যবস্থায় চাকরি শেষ হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট H-1B কর্মী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজা বা অভিবাসন অবস্থার পরিবর্তনের সুযোগ পান। এই সুবিধা সীমিত করা হলে চাকরি হারানো বিদেশি কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান বজায় রাখা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

আগের ১ লাখ ডলারের ফিও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে

H-1B ভিসার ওপর ১ লাখ ডলারের একটি অতিরিক্ত ফি আগেই ট্রাম্প প্রশাসন চালু করেছিল। তবে সেটি আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। জুন ২০২৬ সালে ম্যাসাচুসেটসের একটি ফেডারেল আদালত ওই ফি অবৈধ বলে রায় দেয়। পরে সরকারের আপিলের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলতে থাকে এবং জুলাইয়ে ফি আদায়ের ওপর কার্যকর বাধা তৈরি হয়। (Reuters)

নতুন ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলারের প্রস্তাবটি তাই আগের ব্যবস্থাকে সরাসরি চালু রাখার পরিবর্তে আনুষ্ঠানিক regulatory rulemaking-এর মাধ্যমে নতুন কাঠামো তৈরি করার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হওয়ার আগে এর বৈধতা ও বাস্তবায়ন নিয়ে আরও আইনি ও নীতিগত বিতর্ক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। (Reuters)

যুক্তরাষ্ট্রে থাকা H-1B কর্মীদের জন্যও কি প্রভাব পড়বে?

প্রস্তাবিত নিয়মের আওতায় নতুন H-1B petition-এর ক্ষেত্রে কারা পড়বেন, সেটি নিয়ে বিস্তারিত বিধান চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নতুন H-1B petition-এর ওপর এই ফি আরোপের কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। তবে বিদ্যমান H-1B কর্মীদের renewal বা নির্দিষ্ট ধরনের extension-এর ক্ষেত্রে একই ফি প্রযোজ্য হবে কি না, তা প্রস্তাবের চূড়ান্ত ভাষা ও বাস্তবায়ন নির্দেশনার ওপর নির্ভর করবে। (Reuters)

এখনই কি নতুন H-1B ফি দিতে হবে?

না। প্রস্তাবিত ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলারের ফি এখনো চূড়ান্ত নিয়ম হিসেবে কার্যকর হয়নি। Federal Register-এ প্রস্তাব প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত নেওয়া হবে এবং এরপর প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেবে। তাই H-1B আবেদনকারী ও নিয়োগকর্তাদের জন্য এখনই নতুন ফি পরিশোধের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়নি। (AILA)

সামনে কী হতে পারে?

নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের খরচ নাটকীয়ভাবে বেড়ে যেতে পারে। এর প্রভাব প্রযুক্তি, আর্থিক সেবা, গবেষণা, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য দক্ষতানির্ভর খাতে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে OPT-এর সম্ভাব্য ১ লাখ ডলারের ফি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ নেওয়ার সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলতে পারে।

সব মিলিয়ে, H-1B ভিসার প্রস্তাবিত ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলারের ফি শুধু ভারতীয়দের জন্য নয়, যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্যই বড় নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হওয়ার আগে এর কাঠামো, ব্যতিক্রম এবং আইনি অবস্থান আরও পরিষ্কার হবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments